বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতার নামে লোভনীয় অফারের ফাঁদে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য শিকারিরা। সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র কৌশলীপস্থায় মৎস্য শিকারিদের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ‘সুন্দরবন করমজল’ নামকস্থানে বরিশাল এ্যাংলার্স ক্লাবের উদ্যোগে চলতি বছরের ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর আস্থাভাজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা হামিদুর রহমান অন্তুর নেতৃত্বে কোটি টাকার জুয়ার আসর সম্পন্ন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরও ‘নৌ-বিহার ও মিলনমেলার মেলার নামে বরিশাল এ্যাংলার্স ক্লাবের উদ্যােগে চাঁদপুরে দেশের বিভিন্নস্থানের জুয়ারীদের নিয়ে জুয়ার আসর পরিচালনা করেছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান অন্তু। এবার সুন্দরবনের করমজল নামকস্থানে জুয়ার আসরেও জুয়ারীদের মিলন মেলা ঘটে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় বরিশাল ত্রিশ গোডাউন থেকে প্রিন্স ছত্তার খান লঞ্চযোগে সুন্দরবনের করমজলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। আওয়ামী ঘরোনার পদধারী নেতাকর্মীদের একটি অংশ এই নৌ বিহারের নামে জুয়ার আসরে মিলিত হন। নগরীর ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ড এবং কাশিপুর ইউনিয়নের পদধারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ৪০ লাখ টাকা নিয়ে জুয়ার আসরে অংশগ্রহন করেছেন। এছাড়া বরিশাল নগরী ও আশপাশ এলাকার আওয়ামীপন্থীরা নৌবিহারে জুয়ার আসরে অংশ গ্রহন করার খবর বিভিন্ন মহলে চাউর ঘটে। শুক্রবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় সুন্দরবনে জুয়ার আসর সম্পন্ন করে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।
এরআগে বরিশাল এ্যাংলার্স ক্লাব নামের সংগঠনটি নৌবিহার ও মিলন মেলার ঘোষণা দেন। ঘোষণায় সরাসরি হাউজি খেলার কথা উল্লেখ করা হয়, যা জুয়া খেলার সামিল। সংগঠনটির প্রকাশ্যে এরকম ঘোষণার পরও প্রশাসনের কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহনের খবর পাওয়া যায়নি। বিগত কয়েক বছর ধরে ঘোষণা দিয়ে জুয়ার আসরে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। সংগঠনটি নৌবিহারের এহেন মিলন মেলার আয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমোতি নেয়নি। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জুয়ার আসর বসানোর ঘটনায় সচেতনমহল গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জুয়ার আসরের নেতৃত্বে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অন্তুসহ জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, বরিশাল ফিশিং জোন ও বরিশাল এ্যাংলার্স ক্লাবের আয়োজনে ‘ বছরের কয়েকবার বাকেরগঞ্জ আউলিয়াপুর বৈরম খাঁ দিঘি’ তে কয়েক হাজার মৎস্য শিকারি অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামে লাখ লাখ টাকা আয়ের মধ্যে বিজয়ীদের দেয়া হয় লাখ লাখ টাকা পুরস্কার। এবার সুন্দরবন করমজলে জুয়ার হামিদুর রহমান অন্তুর নেতৃত্বে মৎস্য শিকারী, জুয়ারিসহ প্রায় ৬ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেছেন। এর প্রোমোটার হলেন মো. জিকু খান।
জানা গেছে, শখের বশে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করা মানুষের সংখ্যা আবেগ বসত কারণে দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর আওয়ামী লীগ শাসনামলে দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য শিকারিদের মধ্যে প্রতিযোগিতার নামে লটারি ও জুয়া প্রবেশ করিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হামিদুর রহমান অন্তু। প্রতিযোগিতার নামে জুয়ারি, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী সহ সরকারি-বেসরকারি নানা দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সাজিয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। আ’লীগ শাসনামলে ‘মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতার নামে চালু করা সিস্টেমটি এখনও ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকদের সহযোগিতায় পরিচালনা করে আসছে।
চলমান বছরে বরিশালে জুয়া খেলার আসর করতে না পারায় সংগঠনটি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার করমজল পর্যটন কেন্দ্রে জুয়ারীদের মিলন মেলা ঘটিয়েছে। হাউজি খেলা, ব্যান্ড শো ও ড্যান্স শো, বর্ণিল আতশবাজি, র্যাফেল ড্র (পুরস্কার ৩০ টি) ও ১ ঘণ্টার মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা চলে। হাউজি খেলা নিয়ে অনেকের মাঝে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার ঝড় বইছে।
সূত্রমতে, জনপ্রতি টিকেট মূল্য ১৫’শ টাকা, কেবিন সিঙ্গেল ২ হাজার টাকা, ডাবল ৪ হাজার, ফ্যামিলি ৮ হাজার ও ভি.আই.পি কেবিন ২৫ হাজার টাকা। টিকিট সংগ্রহের স্থান ছিল- বরিশাল নগরীর চকেরপুল মেসার্স অনয় এন্টারপ্রাইজ, নথুল্লাবাদ এলাকায় মেসার্স এ.এস এন্টারপ্রাইজ, রুপাতলী এলাকায় মেসার্স তোহা এন্টারপ্রাইজ ও সদর রোড ভাই ভাই বড়শি ঘর।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, ‘নৌ-বিহার ও মিলনমেলায়’ পরিবার ছাড়াও বন্ধু-বান্ধবীরা অংশগ্রহন করেছেন। লঞ্চে আনন্দ বিনোদনের জন্য ছিল সকল সুযোগ সুবিধা। জুয়ারীরা লঞ্চে বসেই মেতে উঠে জুয়া খেলায়। মাদক সেবীদের জন্য ছিল সু-ব্যবস্থা । মৎস্য শিকারিদের বুঝানো হয়েছিল যে সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাঁধা দিবে তাদের ম্যানেজ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে সকল আয়োজন। যে কারণে কেউ ভ্রমণে, কেউ মাদক ক্রয়-বিক্রয়, সেবনে, কেউ জুয়া খেলায়, কেউ মাছ শিকারে আকৃষ্ট হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। হাউজি খেলা, ব্যান্ড শো ও ড্যান্স শো, বর্ণিল আতশবাজি নিষিদ্ধ থাকার পরও দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সুন্দরবন এলাকায় আওয়ামী ঘরোনার লোকজন বীরদর্পে এত অংশগ্রহন করেছেন।
বরিশাল এ্যাংলার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদুর রহমান অন্তু বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়াছড়ি হয়েছে। পিকনিকের আনন্দ উল্লাসের জন্য অতি উৎসাহ হয়ে কয়েকজন জুয়া খেলা সহ নানা তথ্য লিখে পোস্টার করেছিল। পিকনিকে তো একটু আনন্দ উল্লাস থাকেই। অনেকে বিষয়টি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, অনুমতি দেয়া তো দূরের কথা- বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে কেউ কিছু অবহিত করেনি। বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ বলেন, বিষয়টি দেখবেন খুলনার জেলা পুলিশ। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার টি, এম, মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনা শুনে বিস্তারিত তথ্য চান তিনি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply